Sunday, October 11, 2020

ধর্ষণ বিস্তারে দিশেহারা জাতি: সমাধান কি? মিজানুর রহমান আজহারী


বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা হচ্ছে। এই দৃশ্য ধারন করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই বর্বরতা সহ্য ক্ষমতার বাইরে। কি একটা অসুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এ দেশে! আমাদের পরিবারগুলোতে এভাবে ধর্ষক গড়ে উঠল আর আমরা কেউ টেরই পেলাম না। ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। সাধারণ জনগণ না পারছে কইতে, না পারছে সইতে। বিচার চেয়ে মানববন্ধন করতে গেলে সেখানে আইনশৃংখলা বাহিনীর বাধা। এভাবে বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত জনগণ যখন বিচার করার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিবে তখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই, ধর্ষণের নজিরবিহীন শাস্তি নিশ্চিত হোক— এটাই আজ গণমানুষের দাবী।

ধর্ষণ হচ্ছে একটি সেক্সুয়াল ক্রাইম বা সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স। আদতে ধর্ষণ কোন যৌনতা নয়, এটা পুরুষের ক্ষমতার অপব্যবহার। আর ক্ষমতার ছায়াতলেই মূলত বেড়ে ওঠে ধর্ষকরা। সাধারণত, মানুষ যেটা দেখে দেখে শিখে সেটা সে নিজে ট্রাই করে দেখতে চায়। সিনেমাতে পরিবারের সবাই মিলে ধর্ষণের দৃশ্য উপভোগ করা সমাজে এর চেয়ে ভালো কিছু হওয়ার তো কথা ছিল না। যা হওয়ার তাই তো হচ্ছে। উঠতি তরুণ বয়সে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার স্বাদ পেলে— সে ক্ষমতা কে না খাটাতে চায়? দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা যখন ক্রিমিনাল ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠে মূলত তখন অনিয়ন্ত্রিত ও মাত্রাতিরিক্ত উগ্র ক্ষমতার জোরেই এরা ধর্ষণের সাহস করে। ক্ষমতার বলে ও আইনের ফাঁকফোকর মাড়িয়ে এরা সব সময় থাকে ধরা-ছোঁয়ার আড়ালে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে একটি ছেলে অথবা মেয়ে গড়ে ১৪/১৫ বছর বয়সেই পরিপূর্ণ সেক্সুয়াল অ্যাবিলিটি লাভ করে থাকে। কিন্তু তারা বিয়ের পিড়িতে বসে আরো ১০/১৫ বছর পর। এই লম্বা সময় ধরে যৌন ক্ষুধা নিবারণের কোন বৈধ সুযোগ তাদের হাতে নেই। উপরন্তু বিয়ের প্রশ্ন উঠলেই আসে সামাজিক যতো নিয়ম কানুনের দোহাই।

যৌনশক্তি আল্লাহ তা’আলার দেয়া এক অমূল্য সম্পদ। এই সেন্সিটিভ এনার্জিকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয় তবে এর অপব্যবহার হবে এটাই স্বাভাবিক। তার উপর যদি থাকে নৈতিক অধ:পতন এবং উগ্র ক্ষমতা প্রদর্শণের সুযোগ তাহলে তো ধর্ষণ ঠেকাবার আর কোন রাস্তাই খোলা নেই।

এদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা বেশিরভাগ সময় সেক্সুয়ালি ওভার চার্জড হয়ে থাকে। বিজ্ঞাপনে আর বিলবোর্ডে সর্বদা শোভা পাচ্ছে স্বল্প বসনা নারী যেখানে তার দেহের আকর্ষণীয় সব উঁচুনিচু ভাঁজগুলো প্রেজেন্ট করা হচ্ছে, ক্রিকেট খেলার মাঝখানে চিয়ার্সগার্লসদের বেলি ড্যান্স, মুঠোফোনে সহজলভ্য সেক্সুয়াল কন্টেন্ট, ওয়েব সিরিজ, পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল সিনেমা আরো কতো কি। 

নারীদেহকে যারা সেক্স অবজেক্ট হিসেবে ভোগের সস্তা পণ্য করে উপস্থাপন করে এরা সবাই মূলত ধর্ষক। এই সেক্স অবজেক্ট দেখে দেখে তরুণরা ফুল্লি চার্জড হয়ে থাকে। কিন্তু হালাল পন্থায় এই এনার্জি রিলিজ করার কি তার কোন জায়গা আছে?? না, নেই ! ফলাফলস্বরূপ চলছে মাস্টারবেসন, বিবাহ বহির্ভূত শারিরীক সম্পর্ক, আর ক্ষমতা থাকলে বীরদর্পে ধর্ষণ। সংবাদমাধ্যম, গণমাধ্যম, ফেইসবুকের নিউজফিডে যেন একটাই নিউজ— ধর্ষণ! ধর্ষণ! আর ধর্ষণ!

প্রতিটি জাতীয় দৈনিকে যদি হত্যা ও ধর্ষণের জন্য আলাদা একটি পাতা নির্ধারিত থাকে, ওই পাতা কোনোদিন খালি থাকবে বলে মনে হয় না। প্রতিটি জেলায় প্রায় প্রতিদিন এজাতীয় ঘটনা ঘটছে। তাই, এই মহামারির প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে— বিয়েকে সহজ করুন, অশ্লীলতার সকল পথ বন্ধ করুন, উগ্র ক্ষমতার প্রয়োগ থামিয়ে দিন এবং সন্তানদের নৈতিকতা ও মানবিকতার সবক দিন। 

দিনরাত তরুণসমাজকে কাছে আসার গল্প শোনাবেন, নোংরা রাজনীতির পাওয়ার গেইম শেখাবেন। আর ধর্ষণ করলে হই চই শুরু করবেন। ওয়াট অ্যা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ! নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, বইপুস্তক এবং ইন্টারনেট সব যায়গায় নগ্নতা ও যৌনতায় ভরপুর থাকবে, বিয়ে কঠিন হবে, ক্ষমতার রাজনৈতিক মহড়া চলতে থাকবে আর কিছু ধর্ষককে ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে—এ ধারণা নিছক শিশুসুলভ ধারণা বলেই আমার কাছে মনে হয়।

মানুষকে মানুষ বানানো এতো সহজ কাজ নয়। আমি প্রায়ই বলে থাকি যে গরুর পেট থেকে বের হলেই সেটা গরু হয়, ছাগলের পেট থেকে বের হলেই সেটা ছাগল হয় কিন্তু মানুষের পেট থেকে বের হলেই সেটা মানুষ হয়ে যায়না বরং সেটাকে মানুষ বানাতে হয়। মানুষকে মানুষ বানানো না গেলে তার মধ্যে পশুসুলভ আচরণ ডেভেলপ করে। তখন তার মধ্যে আর মনুষ্যত্ব থাকে না। এমনকি কখনো কখনো সে পশুকেও ছাড়িয়ে যায়। আর নিবিড় পরিচর্যা, নৈতিক সুশিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা তাকে ধীরে ধীরে আলোকিত মহামানবে পরিণত করে। তাই, মানুষকে মানুষ বানাতে দরকার নৈতিক শিক্ষা ও মানবিকতার চর্চা। পরিবারে, সমাজে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নৈতিক শিক্ষা ও মানবিকতার চর্চা করা খুব জরুরী।

যদি আমরা আসলেই সমাজ থেকে ধর্ষণ বন্ধ করতে চাই— তাহলে আমাদেরকে সামগ্রিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করে অপরাধপ্রবণতা বিরোধী এবং মানবতাবান্ধব একটি সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও খোদাভীতি সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে। শুধু তাই নয়, আগে শাসকশ্রেণী ও অভিভাবকদের নিজেদেরকে খোদাভীতিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করতে হবে। তবেই কেবল সামগ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।

ধর্ষণ ঘটনার তীব্রতা বোঝাতে অনেকে লিখছেন— মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। কিন্তু মধ্যযুগীয় বর্বরতা বা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে কিভাবে সমাধান করা হয়েছিল সে বয়ান দিতে গেলে তো তখন তারা কানে কুলুপ এঁটে রাখে। আসলে, মানব জাতির স্রষ্টা মহান আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন যে সামাজিক ভারসাম্য অক্ষুন্ন রাখতে ব্যভিচার ও ধর্ষণের শাস্তি কেমন হওয়া উচিত। তাই, ইসলামে ব্যভিচার ও ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানবিক সমাজব্যবস্থা, উন্নত চারিত্রিক মূল্যবোধ এবং অপরাধপ্রবণদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাপণা দিয়েই মূলত রাসূলুল্লাহ (ﷺ‬) মধ্যযুগীয় বর্বরতা বা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে কল্যাণে ভরপুর এক মানবিক সমাজে রূপান্তর করেছিলেন এবং এক সোনালি যুগের গোড়াপত্তন করেছিলেন। যে সমাজব্যবস্থা আজও গোটা বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়।

ধর্ষণ ইস্যুতে আরেকশ্রেণী আছে মিউচুয়াল কনসেন্ট নিয়া। কনসেন্ট নিয়া সম্পর্ক করলে নাকি কোন সমস্যা নাই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পুরুষের বিরুদ্ধে। পুরুষরাও কম হয়রানির শিকার হচ্ছেনা। যখন ফিজিক্যাল রিলেশন হয়, তখন সেটাকে প্রেম ও ভালোবাসা শব্দে ব্যক্ত করা হলেও সময়ের বিবর্তনে তা ধর্ষণ নাম ধারণ করে। এবং পরিণামে নারী নির্যাতন মামলাও হয়। ধর্ষণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত হওয়ার পর অনেক পুরুষকে ধর্ষণের অপবাদ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করছে অনেক নারীরা, এমন খবরও উঠে এসেছে। এজন্যই ইসলাম বিবাহ বহির্ভূত সকল সম্পর্ককে হারাম করেছে।

গতকাল একটি ভিডিও ক্লিপে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে কিছু তরুণীদের ধর্ষণবিরোধী একটি শ্লোগানে মুখরিত হতে দেখলাম। শ্লোগানটি ছিল এরকম—“এই দায়-শুধু তোর-তুই ধর্ষক”। প্রিয় বোনদের বলতে চাই— প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের জন্য অনেকগুলো ফ্যাক্টর দায়ী। শুধু একদিকে আঙ্গুল তোলাটা ইনসাফপূর্ণ নয়। নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও অপরাধপ্রবণ, দুশ্চরিত্র, লম্পট ও বিকৃত রুচির কিছু লোক সমাজে থাকবেই। যাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য আপনাদেরকেই সেইফটি ম্যাজারমেন্ট নিতে হবে। তাই, দয়া করে ঘরের বাইরে সব সময় নিজেকে শালীন পোশাকে আবৃত রাখুন। মনে রাখবেন হিজাব নারীর আভিজাত্য, সৌন্দর্য, লাজুকতা ও রুচিশীলতার প্রতীক। ইসলাম নারীকে কষ্ট দেয়ার জন্য হিজাবের বিধান দেয়নি বরং দিয়েছে রক্ষাকবচ হিসেবে।

নৈতিকতার অভাব, অশ্লীলতার প্রসার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অনুপস্থিতি এবং ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনের যে অপসংস্কৃতি দেশে চলে এসেছে তাতে খুব সহসা এ ধর্ষণ মহামারি থামানোর কোন সুযোগ নেই। এটা চলতে থাকবে। কিছু ঘটনা ভাইরাল হলে আমরা জানতে পারব আর বাকীগুলো চাপা পড়ে থাকবে।

তাই, এখন থেকেই আমরা সবাই সিরিয়াসলি সতর্ক না হলে এই ক্রাইসিস মোকাবিলা সম্ভব নয়। সর্বমহল থেকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই। মানবিকতার চর্চা ও নৈতিকতার চর্চা ছাড়া ধর্ষণ ঠেকানো সম্ভব নয়। বিবেক জাগানিয়া ও মানবিক সত্তা বিকাশে সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা খুবই জরুরী। পারিবারিক তারবিয়াত এবং প্রতিটি মুসলিম পরিবারে ইসলাম চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের কারো আদরের ভাইটি হয়ে উঠতে পারে ধর্ষক অথবা আমাদের আদরের বোনটি হয়ে যেতে পারে পরবর্তী ভিকটিম। তখন দিশেহারা হয়ে বিচার চাই বিচার চাই বলা ছাড়া আর কিইবা করার থাকবে?

👉  https://facebook.com/688769427897838/posts/3412998712141549/

Saturday, April 11, 2020

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১৫ এবং শেষ


সিয়াম বিকালের দিকে মন খারাপ করে ছাদের এক কোনায় দাড়িয়ে আছে । আর সানজিদা আসতে আসতে ছাদে এসে দেখলো যে সিয়াম এক কোনায় দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । 
-সিয়াম (পিছন থেকে সানজিদা)
সানজিদা এসেছে দেখে সিয়াম ছাদ থেকে নেমে যেতে চাইলো ।
-তোমার সাথে আমার একটা কথা ছিলো । (সানজিদা)
-কি (সিয়াম মন খারাপ করে )
-আমার উপর রেগে আছো (সানজিদা)
-রাগ করার অধিকার নেই‌ আমার (সিয়াম)
-আমি জানি তুমি আমার উপর রাগ করে আছো (সানজিদা)
-বাদ দাও কি বলবা বলো (সিয়াম)
-তুমি আমাকে বিশ্বাস করো নিলয়ের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই (সানজিদা)
-কি ভাবে বিশ্বাস করবো নিজের চোখে দেখেছি (সিয়াম)
-অনেক সময় যেটা দেখা যায় সেটা হয় না আবার যেটা হয় সেটা দেখা যায় না । (সানজিদা)
-তা এখন কি বলতে চাও (সিয়াম)
-বলছি তুমি আমাকে...(কথা থাকিয়ে দিয়ে)
-বুঝেছি আর বলতে হবে না যাও ‌আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম । (সিয়াম)
-সত্যি (সানজিদা খুশি হয়ে )
-হুমম আর সাথে তোমাকেও মুক্তি করে দিবো (সিয়াম)
-মানে
 
-আজকে উকিলের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি (সিয়াম)
-উকিলের কাছে কিন্তু কেনো । (সানজিদা)
-তোমার আর আমার ডিভোর্সের জন্য এটার জন্যই তুমি এখানে বেধে আছো তাইনা তাই তোমাকে মুক্তি দিতে চায় আসলেই‌ আমার প্রথমে বোঝা উচিত ছিলো জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায়না । (সিয়াম)
সিয়াম কথা গুলো বলেই বাসা থেকে বের হয়ে গেলো ।
 
সানজিদা ছাদের উপর হাটু ভাজ করে বসে পড়েছে । কি থেকে কি হয়ে গেলো আমার আর সিয়ামের ডিবোর্স মানে আচ্ছা ও কি বুঝতে পারেনা যে আমিও ওকে ভালোবাসি তারপরও কেনো এমন করছে । ঠিক আছে ও যদি আমাকে ডিবোর্স দিয়ে ভালো থাকে তাহলে ঠিক আছে । ও খুশি থাকলেই হলো । তারপর সানজিদা রুমে চলে এলো ।
 
-কিরে সানজিদা কোথায় গেছিলি (সিয়ামের মা)
-ছাদে
 
-কেনো
 
-এমনি
 
-সিয়ামের সাথে কথা বলেছিস (মা)
-হুমম
 
-কি বললো এখনও কি রেগে আছে (মা)
-..........
-কি হলো কথা বলছিস না কেনো আর পানি কেনো চোখে সিয়াম কি আবার কিছু বলছে । (মা)
-মা ও আমাকে ডিবোর্স দিতে চায় (সানজিদা বলেই সিয়ামের মাকে জড়িয়ে ধরলো)
-কি ডিবোর্স মানে না দাড়া আমি সিয়ামের সাথে কথা বলছি(মা)
-না আম্মা আপনি কিছু বলবেন না ও যদি আমাকে ডিবোর্স দিয়ে খুশি থাকে তাহলে দিক (সানজিদা)
-ডিবোর্স দিবে মানে আমি বেঁচে থাকতে এটা কখনই হতে দিবো না আজকে আসুক বাসায় (মা)
-আম্মা আপনি ওকে কিছু বলবেন না আমার দিব্বি (সানজিদা)
-কিন্তু মা এই অন্যায়টা আমি কি করে মেনে নিবো (মা)
-..........
-আচ্ছা আমার কাছে একটা উপায় আছে (মা)
-কি
 
-তোর সাথে যা কিছু হয়েছে সেটা একটা চিঠিতে লিখে সিয়ামের বালিশের নিচে এমন ভাবে রেখে দিবি যাতে সিয়াম দেখতে পারে তারপর তুই মিমের মামা বাসায় চলে যাবি সিয়াম যখন চিঠিটা পরে নিজের ভুল বুঝতে পারে দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে (মা)
-কিন্তু যদি না হয় । (সানজিদা)
-না হলে আমি আছি আমি থাকতে কখনই ডিবোর্স হতে দিবো না । (মা)
সানজিদা সেই কথা অনুযায়ী একটা চিঠি লিখে সিয়ামের বালিশের নিচে রেখে মিমের মামার বাসায় চলে গেলো ।
এদিকে সিয়াম রাত দশটার সময় বাসায় এসে নিজের রুমে চলে গেলো । ঘুমাতে যাবে এমন সময় মনে হলো বালিশের নিচে কিছু একটা আছে । বের করে দেখলো একটা চিঠি । সিয়াম চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলো ।
-সিয়াম কেমন আছো । জানিনা এই‌ চিঠিটা তুমি পড়বে কিনা যদি পড়ো তাহলে একটু মনোযোগের সাথে পড়বা ।
তুমি আমাকে সহ্য করতে পারছো না তাই আমাকে এখন ডিবোর্স দিতে চাচ্ছো । কিন্তু আমি এটা কি ভাবে মেনে নিবো কারণ আমি যে তোমাকে ভালোবাসি । যার জন্য চলে যাচ্ছি । হ্যা আমি তোমাকে প্রথমে ভালোবাসিনি কিন্তু বিশ্বাস করো এক সময় তোকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু কখনও বলিনি কারণ তোমার বদ অভ্যস গুলো ভালো করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা হয়তো আর হলো না । সেদিন কফি শপে যেটা নিলয়ের সাথে যেটা দেখে ছিলে সেটা ভুল ছিলো (কফি শপে যেটা হয়েছিলো সেটা লিখলো সানজিদা) জানি হয়তো তুমি আমাকে ভুল বুঝছো হয়তো ভাবছো আমি এই গুলা বানিয়ে লিখছি কিন্তু বিশ্বাস করো আমার সাথে নিলয়ের কোনো সম্পর্কই নেই। যাই হোক তুমি যখন আমাকে ভালোই বাসো না তখন আমি নিজেই তোমার থেকে চলে যাচ্ছি ভালো থেকো ।
সিয়াম চিঠিটা পড়ে নিজের ভুলটা বুঝতে পারলো তাই সে তাড়াতাড়ি নিজের মায়ের কাছে গেলো । 
-আম্মু সানজিদা কোথায় (সিয়াম)
-আমি কি করে বলবো দেখলাম একটা ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো (মা)
-বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো আর তুমি আটকালেনা (সিয়াম)
-এখন আমি কিভাবে বলবো যে ও কোথায় যাচ্ছে আমি তো মনে করছি তুই ওকে যেতে বলেছিস তাই চলে গেছে (মা)
-ধুর
 
সিয়াম বাইরে এসে সানজিদার নাম্বারে ফোন দিলো কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে ।
 
একবার ভাবলো সানজিদার বাবার নাম্বারে ফোন দিবে কিন্তু এতোক্ষনে তো সেখানে গিয়ে পৌছানো সম্ভব না তাই আর দিলো না শুধু শুধু তারা চিন্তা করবে এটা ভেবে । কিন্তু কোথায় যেতে পারে । আচ্ছা মিমের মামার বাসায় যায়নি তো এটা ভেবেই মিমের মামার বাসায় চলে গেলো সিয়াম ।
-আরে দুলাভাই আপনি এতো রাতে (মিম দরজা খুলে )
-সানজিদা এসেছে তোমাদের এখানে (সিয়াম)
-সানজিদা কই নাতো কেনো সানজিদা কোথায় (মিম)
- সত্যিই কি তোমাদের এখানে আসেনি (সিয়াম)
-না
 
-আসে নি নাকি তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো (সিয়াম)
-আমি কেনো আপনাকে মিথ্যা কথা বলবো (মিম)
-ওহ্
সিয়াম ওখান থেকে মন খারাপ করে বেড়িয়ে যেতে লাগলো ।
-কই‌ যাও (পিছন থেকে সানজিদা)
সিয়াম যেনো সানজিদাকে দেখে প্রাণ ফিরে পেলো
 
-সানজিদা তুমি এখানে আর আমি তোমাকে সারা জায়গায় খুজে বেড়াচ্ছি (সিয়াম)
-কেনো আমি কে যে আমাকে খুজছো তুমি তো আমাকে মুক্তি দিতে চেয়েছো (সানজিদা)
-সানজিদা আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আমাকে মাফ করে দাও চলো বাসায় যাবে । (সিয়াম)
-কোন অধিকারে তুমি তো ডিবোর্স দিবে উকিলের কাছেও গেছিলে আজকে (সানজিদা)
-হ্যা বলেছিলাম কিন্তু আমি যায়নি আসলে নিলয়ের সাথে তখন সেটা আমি মেনে নিতে পারিনি প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও । (সিয়াম)
-আর কখনও কষ্ট দিবা না তো (সানজিদা)
-এই যে কান ধরছি আর কখনও না । (সিয়াম)
বলেই দুজনে হেসে উঠলো । তারপর সিয়াম সানজিদাকে নিয়ে বাসায় চলে এলো । সানজিদা সিয়ামের মাকে নিজের বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে বোঝাতে চাইলো যে কাজ হয়েছে ।
-সিয়াম তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো (সানজিদা)
-কি
-আসলে এই চিঠির প্লানটা আম্মার ছিলো (সানজিদা)
-কি তার মানে আম্মু জানতো তুমি কোথায় তার পরও এতো ঘুরালো (সিয়াম)
-হি হি হি আচ্ছা তুমি কি আমাকে সত্যি ভালোবাসো‌(সানজিদা)
-হুমম তবে আমার একটা স্বপ্ন আছে যেটা পূরণ করবা (সিয়াম)
-কি
 
-ছাদে চলো (সিয়াম)
-পাগল নাকি এতো রাত কেউ ‌ছাদে যাই (সানজিদা)
-আগে চলো তো তারপর দেখবা (সিয়াম)
সিয়াম সানজিদাকে নিয়ে ছাদে চলে এলো ।
 
-কি স্বপ্ন যে এতো রাতে ছাদে নিয়ে এলো । (সানজিদা)
-দেখেছো আজকে আকাশে কত সুন্দর চাঁদ উঠেছে আর চারপাশ টাও ফাকা (সিয়াম)
-হুমম তো (সানজিদা)
-চলো‌না আমরা দুজনেই মিলে এই ‌চন্দ্রালোকে স্নান করি (সিয়াম)
-না একদমই না (সানজিদা)
-দেখো এটাই আমার স্বপ্ন যেটা আমি বাসর রাতে দেখেছিলাম কিন্তু তুমি পূরণ হতে দাওনি আজকে পূরণ করতেই‌ হবে (সিয়া‌ম)
-যদি না করি (সানজিদা)
-যদি না করো তাহলে তোমার সাথে আর কথায় বলবো না হু (সিয়াম বলেই অন্য দিকে ঘুরে দাড়ালো)
-রাগ করছো বুঝি (সানজিদা)
-.........
-কথা বলবানা আমার সাথে (সানজিদা)
-.........
-ঠিক আছে তোমার স্বপ্ন পূরণ করবো তবে একটা শর্ত আছে (সানজিদা)
-কি( সিয়াম আগ্রহ নিয়ে)
-আমাকে এখান থেকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে (সানজিদা)
-এটা তো কোনো বেপারই না (বলেই সিয়াম সানজিদাকে কোলে করে ঘরে নিয়ে গেলো)
আসুন আমরা চলে আসি ওরা স্বপ্ন পূরণ করতে থাক ।‌




সমাপ্ত।


শেষ পার্টটা কেমন হয়েছে জানি না । আর যারা শুরু থেকেই গল্পের সাথে ছিলেন তাদেরকে ধন্যবাদ । গল্পটা কাল্পনিক কোনো ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ।

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১৪



সিয়াম সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে যেতে লাগলো ।‌
--কোথায় যাচ্ছো (সানজিদা)
-বাইরে
 
-তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো (সানজিদা)
-কি
 
-বলছিলাম যে কি আমাকে একটু মার্কেটে নিয়ে যাবে (সানজিদা)
-কেনো তুমি একা যেতে পারো না । (সিয়াম)
-এমন করো কেনো গেলে কি হবে (সানজিদা)
-আমার কাজ আছে তোমার দরকার হলে যাও‌ আমি যেতে পারবো না (সিয়াম)
এমন সময় সিয়ামের বাবা এসে হাজির
 
-দেখুন না বাবা আপনার ছেলেকে বললাম আমাকে মার্কেটে নিয়ে যেতে কিন্তু নিচ্ছে না (সানজিদা)
-কিরে সিয়াম বউমা কি ঠিক বলছে (বাবা)
-হুমম
 
-নিয়ে জানা তাছাড়া তো ও সব সময় বসেই থাকে বাসায় আজকে একটু যেতে চেয়েছে যা (বাবা)
-আমার কাজ আছে আমি যেতে পারবো না (সিয়াম)
-তোর কোনো কাজ নেই তুই বউমাকে নিয়ে মার্কেটে যা (বাবা)
-আমি পারবো না বললাম তো (সিয়াম)
-বউমা যখন যেতে চায়ছে তখন নিয়ে যানা (পিছন থেকে সিয়ামের মা)
-আম্মু
 
-কোনো কথা হবে না যা (মা)
-হুমম যাচ্ছি যাও গিয়ে রেডি হয়ে আসো (সিয়াম)
-হি হি আমি রেডিই আছি চলো (সানজিদা)
বাহ্ এতো দেখি ৪.৫ জি সিমের থেকেও ফাস্ট একে বারে প্রস্তুত হয়ে আছে ।
 
-কি হলো দাড়িয়ে আছো কেনো চলো (সানজিদা)
-হুমম চলো (সিয়াম)
-এই নে গাড়ির চাবি যা (সিয়ামের বাবা)
-উহু আমরা রিকশায় করে যাবো আপনি চাবি রেখে দিন (সানজিদা)
সিয়ামকে নিয়ে সানজিদা বাইরে এসে একটা রিকশায় উঠলো । দুজনেই‌ রিকশার পাশাপাশি বসে‌ আছে । বাতাসে সানজিদার চুল গুলো উড়ছে আর সেই‌গুলা সিয়ামের মুখের উপড় গিয়ে পড়ছে । সিয়ামের কাছে বেপারটা বিরক্তি কর লাগলেও ‌এক রোমান্টিকতা কাজ করছে । রিকশা চলছে তার আপন গতিতে । তারপর দুজনেই মার্কেটে চলে এলো ।
 
সানজিদা সেই‌ কখন থেকে মার্কেট করেই‌ যাচ্ছে এই জন্যই বলে মেয়ে মানুষের সাথে মার্কেটে আসতে নেই ।
 
-কি হলো ‌হয়েছে তোমার (সিয়াম)
-হুমম আর অল্প একটু (সানজিদা)
-এতোক্ষন লাগে মার্কেট করতে তাড়াতাড়ি করো নাহলে আমি চলে গেলাম । (সিয়াম)
-এই তো হয়ে গেছে আর একটু ওই পাশ টার দোকানে চলো (সানজিদা)
সানজিদা সিয়ামকে নিয়ে একটা শার্ট প্যান্টের দোকানে নিয়ে এলো ।
 
-এখানে নিয়ে এলে কেনো (সিয়াম)
-মার্কেট করবো (সানজিদা)
-কি তুমি ছেলেদের পোশাক পড়বে পাগল টাগল হয়ে যাও নি তো (সিয়াম অবাক হয়ে)
-ধুর আমি কেনো ছেলেদের পোশাক পড়তে যাবো (সানজিদা)
-তাহলে
 
-এটা তো তোমার জম্য দেখি ঘুরে দাড়াও এই শার্টটা তোমার গায়ে হয় কিনা (সানজিদা)
সিয়ামের পিঠের সাথে একটা শার্ট ঠেকিয়ে ধরলো ।
 
-হুমম হবে কালার টাও অনেক সুন্দর মামা এইটা প্যাক করে দিন তো (সানজিদা দোকানদারকে বললো)
-মামা প্যাক কইরেননা । আর এখানে আমার জন্য তোমাকে মার্কেট করতে বলিনি তুমি যা দরকার নাও (সিয়াম)
-একটা শার্টই তো নাও না (সানজিদা)
-কি মামা আফা যখন বলছে নিয়ে যান (দোকানদার)
-ঠিক আছে দিন । (সিয়াম)
তারপর দুজনেই মার্কেট করে বাইরে বেড়িয়ে এলো ।
 
-চলো একটা কফি শপে যায় এক সাথে কফি খাবো (সানজিদা)
-না এখন বাসায় যাবো (সিয়াম)
-আসো না শুধু একটা কফি প্লিজ (সানজিদা)
সিয়াম আর সানজিদা সামনের দিকে হাটছে ।
-কেমন আছো সানজিদা (পিছন থেকে নিলয়)
সানজিদা কন্ঠটা শুনে পিছনে তাকিয়ে নিলয়কে দেখে কিছুটা অবাক হলো । তারপরও‌ কোনো কথা না বলে হাটতে লাগলো ।
 
-রেগে আছো আমার উপরে (নিলয়)
-কে আপনি (সানজিদা)
-বুঝছি এখনও রেগে আছো চলো না এক সাথে বসে কথা বলি (নিলয়)
-আপনার সাথে কোনো কথা বলার ইচ্ছাই ‌আমার নেই । (সানজিদা)
-শুধু একটা কফি খেতে যতক্ষন লাগে সেই সময় টুকু প্লিজ(নিলয়)
তিনজনে মিলে একটা কফি খেতে লাগলো । হঠাৎ করে আশিকের ফোন আসায় সিয়াম ওদের দুজনকে রেখে একটু বাইরে কথা বলতে গেলো‌।
 
-কেমন আছো‌(নিলয়)
-.........
-আমি জানি তুমি আমার উপরে রেগে আছো প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও তখন সিয়ামের বন্ধুরা আমাকে ‌উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে ছিলো কিন্তু আমি এখন বুঝতে পারছি (নিলয়)
-এই বিষয় বাদ দিয়ে অন্য কিছু থাকলে বলুন (সানজিদা)
-আপনি করে কেনো বলছো তাছাড়া এই‌ সিয়ামই বা তোমার সাথে কি করছে এখানে । (নিলয়)
-ও আমার স্বামী সুতরাং সাবধানে কথা বলুন (সানজিদা)
-ওহ্ এতো দিন তো ওকে সব সময় ঘৃণা করে আসতে এখন আবার স্বামী হলো কি করে তুমি কি ভুলে গেছো‌ ও তোমার সাথে কি করেছে । (নিলয়)
-না ভুলিনি আর তাছাড়া ও যা করেছে ভালো করেছে অন্তন তোমার মতো একজন লোককে তো চিনতে ‌পেরেছি যে মানুষকে বিশ্বাসই করতে জানে না । (সানজিদা)
-দেখো‌ সানজিদা এখানে আমার কোনো দোষ নেই‌ সিয়ামের বন্ধুরা আমাকে উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে ছিলো আর এই সিয়াম ও ভালো না । (নিলয়)
-ওর বিষয় নিয়ে একটা কথাও বলবে না ও ভালো কি না ভালো সেটা আমার থেকে আপনি বেশি জানেন না (সানজিদা)
নিলয় সানজিদার দুটি হাত নিজের দুহাতের মধ্য ধরলো
 
-প্লিজ সানজিদা আমাকে মাফ করে দাও আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি তাছাড়া আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি প্লিজ তুমি আমার কাছে ফিরে এসো । (নিলয়)
-হাতটা ছাড়ুন সিয়াম চলে আসবে । (সানজিদা)
কথাটা বলতেই সিয়াম এসে হাজির আর যেটা দেখলো সেটার জন্য সিয়াম হয়তো প্রস্তুত ছিলো না সোজা রাগ করে বেড়িয়ে গেলো ।
 
-সিয়াম (সানজিদা পিছন থেকে ডাক দিলো )
-কি হলো বলোনা তুমি আমাকে মাফ‌ করেছো‌। (নিলয়)
-আপনাকে হাত ছাড়তে বলেছি আপনার জন্যই ‌সিয়াম আমাকে ভুল বুঝে চলে গেলো । (সানজিদা)
-না ছাড়বো না আগে বলো (নিলয়)
-আপনাকে হাত ছাড়তে বলেছি (সানজিদা)
-আগে বলো না হলে ছাড়বো না আর সিয়ামের মাঝে এমন কি আছে যা আমার মাঝে নেই এক সময় তো সিয়ামকে দেখতে পারতে না নাকি ওর টাকা আছে সেই‌জন্য । (নিলয়)
সানজিদা নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে নিলয়ের গালে কোষে একটা থাপ্পর মেরে দিলো ।
 
-ওর বিষয়ে আর একটা কথাও বলবেন না । আর আজকের পর থেকে যদি আমার সামনে আসেন তো খারাপ ‌হয়ে যাবে কিন্তু বলে দিলাম । (সানজিদা সেখান থেকে বেড়িয়ে বাসার দিকে রওনা দিলো । )
এদিকে সিয়াম ভাবছে না এটা মেনে নেওয়া যায় না সানজিদা এখনও মনে হয় নিলয়কে ভালোবাসে ঠিক আছে ও যেহেতু নিলয়কেই ভালোবাসে ওকে নিলয়ের কাছে ফিরিয়ে দিবো ।
সানজিদা বাসায় এসে দেখে যে সিয়াম খাটের উপরে বসে আছে ।
 
-সিয়াম (সানজিদা ডাক দিতে সিয়াম রাগী ভাবে ওর দিকে তাকায়)
-দেখো তুমি যেটা ভাবছো সেটা কিন্তু ঠিক না । (সানজিদা)
-কি ঠিক না । (সিয়াম)
-আমার আর নিলয়ের মাঝে কিছু....
-থাক আর বলতে হবে না বুঝে গিয়েছি আসলেই আমার প্রথমেই বোঝা উচিত ছিলো যে জোর করে কারো মন পাওয়া যায় না । (সিয়াম)
-কিন্তু আমি তো ।
 
-আর বলতে হবে না তুমি আমার কাছ থেকে মুক্তি চাও তো ঠিক আছে আমি আর তোমাকে আটকাবো না তোমার যা ইচ্ছা করো । (সিয়াম)
-কি সব বলছো বিশ্বাস করো সিয়াম আমার আর নিলয়ের মাঝে তেমন কিছুই নেই । (সানজিদা)
-কি বিশ্বাস করবো হ্যা যেটা নিজের চোখে দেখেছি সেটাকে কি ভাবে অবিশ্বাস করবো আর কি যেনো বলছিলা ওকে হাত ছাড়ো না হলে সিয়াম এসে দেখে ফেলবে এটার মানে কি হু এর পরেও কি আর কিছু বুঝার বাকি আছে (সিয়াম)
-সিয়াম তুমি শুধু সেটাই‌ শুনেছো কিন্তু তার আগে কি হয়েছে সেটা তো শুনবা । (সানজিদা)
-তোমাকে আর বলতে হবে না । তুমি নিলয়ের কাছে যেতে চাও তো ঠিক আছে আমি তোমাকে আটকাবো না যাও (সিয়াম)
-সিয়াম আমার কথাটা তো শোনো । (সানজিদা)
-আমার এখন ভালো লাগছে না প্লিজ আমাকে একা ছেড়ে দাও (সিয়াম)
-কথাটা তো ....
-বললাম না ভালো লাগছে না আমাকে একা থাকতে দাও । (সিয়াম জোর গলায়)
-হুমম যাচ্ছি । (সানজিদা কাঁদতে কাঁদতে সিয়ামের মায়ের রুমে চলে গেলো । )
-কিরে মা কি হয়েছে কাঁদছিস কেনো আর সিয়াম ওতো জোরে করে কথা বলছিলো কেনো । (মা)
-আমার সব শেষ হয়ে গেলো (সানজিদা)
-কেনো রে মা কি হয়েছে সিয়াম তোকে কিছু বলছে (মা)
তারপর সানজিদা আজকে কি হয়েছে সেটা খুলে বললো ।
 
-কাঁদিস না মা ঠিক হয়ে যাবে সিয়ামকে গিয়ে এই‌কথাটা বল । (মা)
-ও‌ আমার কোনো কথায় শুনতে চায় না । (সানজিদা)
-ঠিক আছে তুই‌ এখানে থাক আমি ওর সাথে কথা বলে আসছি (মা)
-না আম্মা আপনি‌ এখানেই থাকুন ও একটু এক থাকতে চায় ওর মন ভালো হলে আমিই বুঝিয়ে বলবো । (সানজিদা)
-ঠিক আছে তুই ‌এখানে বস আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি । (মা)
-আমার ক্ষুদা নেই (সানজিদা)
-এটা কেমন কথা সেই সকালে খেয়ে বেড়িয়েছিস এখন তো কিছু খেয়ে নে আর কাঁদিস না সিয়ামের মন ভালো হলে দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে । (মা)
-তাই‌ যেনো হয় । (সানজিদা)
সানজিদা এখনও কেঁদেই চলেছে । কেনো যে তখন নিলয়ের সাথে কথা বলতে গেলাম তখন যদি কথা না বলতাম তাহলে হয়তো এখন সিয়াম আমাকে ভুল বুঝতো না । এই সব ভাবছে আর কান্না করছে ।
সিয়ামও‌ রুমে বসে সানজিদার কথা ভাবছে । কি করে সানজিদা আমার সাথে এমনটা করতে পারলো । আমি তো ওকে সত্যিই ভালোবেসেছি তার পরও ও আমার সাথে এমন করে কেনো । ঠিক আছে ওকে‌ আমি মুক্তি দিয়ে দিবো ও যখন আমাকে ভালোইবাসে না তখন কি লাভ ওকে‌ এখানে শুধু শুধু বন্দি করে রেখে । ওকে‌ ওর খোলা আকাশেই ছেড়ে দেওয়া উচিত যেখানে সিয়াম নামে কেউ থাকবে না ।
...
চলবে....

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১৩



এদিকে সানজিদা সিয়ামের জন্য অপেক্ষা করছে । সিয়ামের জন্য মনটা খারাপ হয়ে আছে কেনো যে তখন এমনটা করতে গেলাম । এখন তো মনে হয় সিয়াম আমার উপর রেগে আছে । না অনেক হয়েছে আর না এবার সিয়ামকে বলে দেওয়া উচিত যে আমিও তাকে ভালোবাসি আজকে আসুক । সানজিদা অপেক্ষায় বসে আছে । রাত প্রায় ১০টার কাছা কাছি কিন্তু সিয়াম এখনও বাসায় আসেনি । এমনটা তো কোনো সময় হয় নি কোথাও গেলে সন্ধ্যার সময় বাসায় চলে আসতো তাহলে কি আমার উপর এখনও রেগে আছে (সানজিদা বসে বসে এসব ভাবছে )
- কিরে মা রাত প্রায় ১০ টা বাজতে চললো সিয়াম এখনও‌ আসছে না কোথায় গেছে ও (সিয়ামের মা)
-জানি না মা (সানজিদা)
-ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা কর কোথায় (মা)
-দিছিলাম কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে । (সানজিদা)
-ঠিক আছে তুই গিয়ে শুয়ে থাক সময় হলে ও চলে আসবে যা (মা)
-না মা আপনি গিয়ে শুয়ে পড়ুন সিয়াম হয়তো এখনই চলে আসবে । (সানজিদা)
-ঠিক আছে টেবিলে খাবার রাখা আছে খেয়ে নিস (মা)
-হুমম
 
সিয়ামের মা নিজের রুমে চলে গেলো । এদিকে সানজিদার টেনশনটা বেড়ে চলেছে সিয়াম এখন আসছে না রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজতে চললো ।
 
সানজিদা চেয়ারের উপর বসে আছে আর ঝিমোচ্ছে হঠাৎ করেই দরজায় বেল । সানজিদা ফাল দিয়ে উঠলো‌ হয়তো সিয়াম এসেছে ।
 
দরজার এপাশে সিয়াম দাড়িয়ে দরজায় বেল বাজিয়েই যাচ্ছে ভালো মতো দাড়াতেও পারছে না হ্যা আজকে সিয়াম ড্রিংস করেছে ।
 
সানজিদা দরজা খুলে দিলো
 
-কি হলো এতোক্ষন্ত লাগে দরজা খুলতে কোথায় ছিলে । (সিয়াম)
-উহু কি গন্ধ ড্রিংস করছো তুমি (সানজিদা)
-আমি ড্রিংস করবো কি না করবো সেটা তোমাকে বলতে বাধ্য নয় (সিয়াম)
-কি হয়েছে তোমার কেনো আজকে ড্রিংস করছো (সানজিদা)
-সরো আমার সামনে থেকে আমার ঘুম পাচ্ছে । (সিয়াম)
সানজিদাকে সরিয়ে দিয়ে সিয়াম সামনের দিকে গিয়ে পড়ে যেতে লাগলো তখনই সানজিদা এসে সিয়ামের হাতটা ধরে
 
-আমাকে ধরতে হবে না আমি যেতে পারবো ছেড়ে দাও (সিয়াম)
-না তুমি পারবে না আমার কাধে হাত দাও আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি (সানজিদা)
-বললাম তো সরে যাও আমি যেতে পারবো (সিয়াম)
আবারও সানজিদাকে সরিয়ে দিয়ে কোনো মতে রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে ।
 
-আজকের থেকে‌ আমি সোফায় ঘুমাবোনা আমি‌ খাটে ঘুমাবো কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না (বলতে বলতেই ঘুমিয়ে যায়)
সানজিদা সিয়ামকে ঠিক ভাবে শুয়ে দিয়ে গায়ের উপরে চাদরটা দিয়ে দেয় । আর সিয়ামের পাশে একই‌ সাথে শুয়ে পড়ে ।
 
-আজকে আমার জন্যই‌ সিয়াম ড্রিংস করেছে না ওর রাগ আমাকে ভাঙাতে হবে । আমিই দায়ি ওর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে আমাকে (সানজিদা এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে)
সকালে সিয়ামের ঘুম ভেঙে যায় দেখে যে সে খাটে শুয়ে আছে আর সানজিদা তার পাশে ঘুমন্তু অবস্থায় । সিয়াম এক ভাবে তাকিয়ে আছে । ঘুমিয়ে থাকলে সানজিদাকে অনেক সুন্দর দেখায় এর‌ আগেও দেখেছে সিয়াম সানজিদাকে ঘুমন্তু অবস্থা । সিয়াম ভাবতে থাকে
 
কেনো যে ও‌‌ আমার সাথে এমন করে বুঝতে পারিনা । কালকে যে থাপ্পরটা মেরেছে এর জন্য ওকে শাস্তি পেতে হবে অনেক সহ্য করেছি আর না ।
সিয়াম বিছানা থাকে ঠেলে উঠে যার জন্য সানজিদার ঘুম ভেঙে যায় ।
 
-কি বেপার আজকে এতো সকালে উঠলে কেনো (সানজিদা)
সিয়াম সানজিদার মুখে তুমি শব্দটা শুনে কিছুটা অবাক হয় কিন্তু ওর এখন নরম হলে চলবে না প্রতিশোধ নেওয়া দরকার ।
 
-তুমি আমার পাশে কেনো (সিয়াম)
-কেনো থাকতে পারিনা (সানজিদা)
-দেখো‌ আমার সামনে‌ ওই সব ভাব করবে না বুঝলে কালকের থাপ্পরের কথা এখনও মনে আছে । (সিয়াম)
-আমি সরি সত্যি আমি কালকে তোমাকে ইচ্ছা করে থাপ্পরটা মারিনি (সানজিদা)
-ইচ্ছা করে মারো নি তাই না এতোদিন তো আমার সাথে যে ব্যবহারটা করে এসেছো‌ এতে আমার ওই কালকের থাপ্পটাই প্রাপ্ত ছিলো শুধু । (সিয়াম)
-দেখো কালকের ওইটার জন্য সরি আমাকে মাফ করে দাও । (সানজিদা)
-আমার ভালো লাগছে না তুমি এখান থেকে যাও (সিয়াম)
-আমার কথাটা তো‌ শুনো (সানজিদা)
-তুমি যাবে এখান থেকে (সিয়াম ঝারি মেরে)
-হুমম যাচ্ছি (সানজিদা মাথা নিচু করে বেড়িয়ে এলো )
-না সিয়াম আমার উপর প্রচন্ড রেগে‌ আছে কিন্তু ওর রাগ ভাঙাবো কি করে আচ্ছা ওতো পায়েসটা অনেক পছন্দ করে আজকে নিজের হাতে ওকে‌ পায়েস রান্না করে খাওয়াবো যদি রাগটা কমে (সানজিদা এটা ভেবে রান্না ঘরে গেলো )
-কিরে মা ঘুম ভাঙলো (সিয়ামের মা)
-হুমম আম্মা সিয়াম তো ‌পায়েস খেতে পছন্দ করে তাই না (সানজিদা)
-হুমম কেনো (মা)
-না ওই যে‌ ওর জন্য একটু পায়েস রান্না করবো (সানজিদা)
-ঠিক‌ আছে তুই ‌যা আমি করে দিচ্ছি (মা)
- না আজকে আমি নিজের হাতে সিয়ামের জন্য পায়েস রান্না করবো (সানজিদা)
-বাহ্ আজকে দেখি‌ সিয়ামের উপর তোমার ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে বেশি করে (মা)
-আম্মা (সানজিদা লজ্জা মাখা মুখে )
-থাক আর লজ্জা পেতে হবে না নে রান্না কর আমি তোকে সব কিছু এগিয়ে দিচ্ছি (মা)
-ঠিক আছে । (সানজিদা)
সানজিদা সিয়ামের জন্য পায়েস রান্না করছে ।
 
আর এদিকে সিয়াম ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসলো ।
 
-আম্মু খেতে দাও(সিয়াম)
-হুমম আসছি (মা)
- কিরে তোর হলো‌ পায়েস রান্না সিয়াম তো‌ ওখানে অপেক্ষা করছে (সিয়ামের মা)
-হুমম এই তো হয়ে গেছে (সানজিদা)
-কি হলো আম্মু দাও (সিয়াম)
-আরে বউমা যাচ্ছে তো (মা)
কিছুক্ষন বাদে সানজিদা সিয়ামের জন্য পায়েস নিয়ে হাজির ।
 
-এটা কি । (সিয়াম)
-কেনো ‌পায়েস আপনার জন্য আজকে আমি নিজ হাতে রান্না করেছি (সানজিদা )
-তোমাকে কে বলেছে আমার জন্য পায়েস রান্না করতে (সিয়াম)
-কেনো তুমি তো পায়েস পছন্দ করো তাই রান্না করেছি খেয়ে দেখো না কেমন হয়েছে । (সানজিদা)
-আমার খাবার কোনো ‌ইচ্ছা নেই‌ আমার বাইরে কাজ আছে আমি গেলাম । (সিয়াম খাবার টেবিল থেকে উঠে যেতে লাগলো)
-কিরে সিয়াম কি হয়েছে তোর বউ মা এতো কষ্ট করে তোর জন্য রান্না করলো‌ আর তুই না খেয়ে উঠে যাচ্ছিস (মা)
-আমার খাবার কোনো ইচ্ছা নেই বাইরে থেকে খেয়ে নিবো (সিয়াম)
সিয়াম বাইরে যেতে লাগলো । পকেটে হাত দিয়ে দেখে যে কাছে টাকা নাও
 
-আব্বু টাকা দাও তো (সিয়াম)
-কেনো কি করবি (বাবা)
-এমনি লাগবে দাও (সিয়াম)
-ঠিক আছে বউমার কাছ থেকে গিয়ে নে যা (বাবা)
-এই সব সময় বউমার কাছ থেকে নে বলো কেনো তো তোমাদের কাছে কি বউমা বড় হয়ে গেলো ‌আর আমি কিছুই না । থাক লাগবে না টাকা (সিয়াম রাগ দেখিয়ে বেড়িয়ে যেতে লাগলো)
-শুনুন (পিছন থেকে সানজিদা )
এই নিন টাকা
 
-লাগবে না ওটা আপনার কাছেই রেখে দিন (সিয়াম বলেই‌ বেড়িয়ে গেলো)
-কিরে মা ওর সাথে তোর‌ কি হয়েছে যে আজকে এতো রেগে আছে তোর উপর (মা)
-জানি না আম্মা (সানজিদা সত্যটা বললো না)
-কিছু একটা তো ‌নিশ্চয় হয়েছে নাহলে তো ও‌ কখনও এমন করেনা (মা)
-সমস্যা নেই ‌এমনি ঠিক‌ হয়ে যাবে‌ আমি রুমে গেলাম (সানজিদা)
সানজিদা নিজের রুমে এসে মন খারাপ করে বসে আছে ।
 
অপর দিকে সিয়াম চলে গেলো ওর বন্ধুদের কাছে ।
 
-কিরে কেমন আছিস তোরা (সিয়াম)
-এইতো ভালো তুই (আশিক)
-ভালোই
 
-ভাবির সাথে কি সমস্যা ঠিক হইছে (আশিক)
-আরে ওর কথা বাদ দে তুই বল তোর‌ ওই ‌মেয়েটার কি খবর (সিয়াম)
-ওটার সাথে তো লাইন ক্লিয়ার (আশিক)
-কি এতো‌দূর হয়ে গেলো‌ আর আমাকে বলিস নি (সিয়াম)
-আরে এখনও‌ কাউকে বলিনি‌(আশিক)
-কেনো রে আমরা কি নিয়ে যাবো নাকি হি হি হি চল‌ এখন তুই‌ আমাদের সবাইকে পার্টি দিবি (সিয়াম)
-কি এখন (আশিক)
-হুমম এখন বাসা থেকে কিছু খেয়ে আসিনি চল । (সিয়সম)
-ঠিক আছে চল । (আশিক)
সিয়াম বন্ধুদের সাথে গিয়ে পার্টি উপলক্ষে নাস্তাটা করে নিলো । তার পর আর সিয়াম সারাদিন বাসায় আসেনি । সানজিদা অনেক বার ফোন দিছে কিন্তু ধরে নি ।
 
সিয়াম রাত ১০ টার সময় বাসায় এসেছে ।
 
- কোথায় ছিলে সারাদিন (সানজিদা)
-আমি যেখানেই থাকি না কেনো তোমাকে বলতে বাধ্য নই (সিয়াম বলেই ঘরের দিকে হাটা দিলো)
-কোথায় যাচ্ছো (সানজিদা)
-ঘরে আমার ঘুম পাচ্ছে । (সিয়াম)
-খেয়ে যাও তোমার জন্য আমিও না খেয়ে বসে আছি (সানজিদা)
সিয়াম কিছুটা অবাক হলো আমার জন্য বা খেয়ে বসে আছে ।
 
-আমার ক্ষুদা নেই বাইরের থেকে খেয়ে এসেছি তুমি পারলে খেয়ে নাও আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না । (সিয়াম বলেই ঘরে চলে গেলো)
সানজিদা সিয়ামের এমন ব্যবহারে অনেক কষ্ট পেয়েছে আসলেই দোষটা তো তারই । সানজিদাও না খেয়ে রুমে গিয়ে সিয়ামের পাশে শুয়ে পড়লো ।
সিয়াম অন্য দিকে মুখ করে শুয়ে আছে । সানজিদা এসে যে ওর পাশে শুয়েছে এটাও বুঝতে পারছে তার মানে সানজিদাও রাতে খায়নি । সানজিদা যে ওর পাশে শুয়ে কান্না করছে এটাও বুঝতে পারছে সিয়াম ।
একটু কান্না করুক দেখি কতক্ষন কাঁদতে পারে । এটা ভাবতে ভাবতেই সিয়াম ঘুমিয়ে পড়লো ।
..
চলবে.....

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১২


সানজিদা রাগী ভাব নিয়ে সিয়ামের পাশে এসে বসলো । 
-সুমাইয়াকে কি বলছেন(সানজিদা)
-কোন সুমাইয়া (সিয়াম)
-এখন নাটক করা হচ্ছে তাই না কি বলছেন ওকে (সানজিদা )
-ক ক কই আমি তো কিছু বলিনি (সিয়াম)
-কিছু বলেন নি তাইনা আমি কিন্তু সব শুনেছি (সানজিদা)
-শুনেইছো যখন তাহলে আবার জিজ্ঞাসা করছো কেনো (সিয়াম)
-আপনি কি বলেছেন আমি ডাইনাসর তাইনা (সানজিদা)
-ভুল কি বলছি (সিয়াম)
-কি এখন আবার বলছেন ভুল কি বলছি এর জন্য আপনাকে শাস্তি পেতে হবে আর শাস্তিটা হলো আজকে রাতে আপনার খাওয়া বন্ধ (সানজিদা)
-এ্যা
-এ্যা নয় হ্যা আর এখন এখানে চুপচাপ বসে থাকুন বেশি কথা বললে.....(সানজিদা)
-হুমম বুঝছি আর বলতে হবে না । (সিয়াম)
সন্ধ্যার পর আবার সুমাইয়া এসে হাজির ।
 
-কি দুলাভাই কি করেন (সুমাইয়া)
সিয়াম কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে আছে
 
-কি হলো কথা বলবেন না । (সুমাইয়া)
-তখন তোমার সাথে কথা বলে রাতের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে এখন আর কথা বলতে চাইনা কে জানে ঘর থেকেই না বের করে দেয় (সিয়াম)
-হি হি এতো ভয় পান সানজিদাকে (সুমাইয়া)
সিয়াম আর কিছুই বললো না কিছুক্ষন বাদে সানজিদা হাজির
 
-কিরে সানজিদা দুলাভাইকে কি করেছিস যে এতো ভয় পায় তোকে আমাকেও বলনা যাতে বিয়ের পরে আমার স্বামী কেউ দুলাভাইয়ের মতো করে রাখতে পারি । (সুমাইয়া)
-কেনো ও কি তোকে এখন কিছু বলেছে (সানজিদা)
-আরে ভয়ে তো কথাই বলছে না দেখছিস না কিভাবে চুপ করে বসে আছে । (সুমাইয়া)
-হুমম আচ্ছা তুই‌ এখন যা (সানজিদা)
-কেনো রে দুলাভাইয়ের ক্লাস নিবি আমিও থাকি দেখি কিভাবে নিস (সুমাইয়া)
-তুই যাবি
 
-হুমম যাচ্ছি দুলাভাই ভালো থাকবেন (সুমাইয়া)
-হুমম আমার আর ভালো থাকা আল্লাহই জানে এখন কপালে কি আছে (সিয়াম মনে মনে)
সুমাইয়া চলে গেলো
 
রাতে সানজিদার মা বাবা খেতে বসেছে আর সানজিদা তাদের দুজনকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে ।
 
-কিরে জামাই কোথায় ডাক দে (বাবা)
-হুমম তোমরা খেয়ে নাও তারপর ডাক দিচ্ছি । (সানজিদা)
-এটা কি করে হয় জামাইকে ডাক দে এক সাথেই খাই (বাবা)
-তোমার জামাই কি যেনো করছে ঘরে তোমরা খাও আমি তার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছি (সানজিদা)
-ঠিক আছে।
 
সানজিদা একটা প্লেটে করে ভাত এবং তরকারি নিয়ে গেলো ।
 
-এই যে মিষ্টার কি করেন (সানজিদা)
সিয়াম দেখলো যে সানজিদার হাতে ভাতের প্লেট তার মানে এটা আমার জন্যই এনেছে ।
 
-তুমি কষ্ট করে ভাত আনতে গেলে কেনো আমাকে বলতে আমি নিজে গিয়ে নিয়ে‌ আসতাম । (সিয়াম)
-এ আইছে উনার জন্য ভাত আনতে যাবো আপনার শাস্তির কথা মনে নেই আর এটা আমি নিজের জন্য আনছি চুপ করে ওখানে বসে থাকুন (সানজিদা)
-এ্যা
 
-অবাক হবার দরকার নেই‌ এটাই আপনার শাস্তি আমাকে ডাইনাসর বলার জন্য । (সানজিদা)
সানজিদা সিয়ামের সামনে বসে খাচ্ছে‌ আর সিয়াম হা করে থাকিয়ে আছে অসহায়ের মতো
 
-ওমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেনো মশা ডুকে যাবে । (সানজিদা)
সিয়াম নিজের মুখটা বন্ধ করে নিলো
-এদিকে নজর দিবেননা বলা যায় না যদি পেট খারাপ হয়ে যায় । (সানজিদা)
সিয়াম অন্যদিক ঘুরে বসলো আর সানজিদা মুচকি মুচকি হাসছে । তারপর সানজিদা খাবার খেয়ে প্লেট গুলা পরিষ্কার করতে চলে গেলো ।
 
এদিকে সিয়ামের পেটের মধ্য ইঁদুর দৌড়াচ্ছে ক্ষুদা লাগছে কিন্তু কি করবে খেতে পারছে না কেনো যে তখন ডাইনাসর বলতে গেলো । কিছুক্ষন বাদে সানজিদা রুমে আসলো ।‌
-উঠুন বিছানা পরিষ্কার করবো । (সানজিদা)
সিয়াম উঠে গেলো ।
 
-আজকে তো তুমি আর আমি এক সাথে থাকবো কারণ এখানে কোনো সোফা নেই আহ্ মনে হয় কি সব সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে যায় । (সিয়াম)
-জেগে জেগে‌ স্বপ্ন দেখা বাদ দিন আমি একা থাকবো (সানজিদা)
-তুমি একা থাকবে মানে তাহলে আমি কোথায় থাকবো (সিয়াম)
-কেনো নিচে (সানজিদা)
-কি আমি নিচে থাকবো পারবো না (সিয়াম)
-না পারলে দাড়িয়ে থাকুন (সানজিদা)
-নিচে আমার এলার্জি আছে আমি পারবো না তাছাড়া তোমার সাথে থাকলে সমস্যা কি । (সিয়াম)
-সমস্যা আছে নিচে থাকলে থাকুন নাহলে দাড়িয়ে থাকেন আমি শুয়ে পড়লাম । (সানজিদা বলেই অন্য পাশ হয়ে শুয়ে পড়লো)
সিয়ামেরও কিছু করার নেই নিচে বিছানা পেতে শুয়ে পড়লো কিন্তু ক্ষুদার জন্য তেমন একটা ঘুম আসছে না এপাশ অপাশ করতে করতে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে জানে না ।
সকালে সানজিদার মা এসেছে ডাকতে ।
-কিরে সানজিদা ওঠ সকাল হয়েছে তো । (মা)
-হুমম আসছি (সানজিদা)
সানজিদা উঠে দেখে যে সিয়াম নিচে শুয়ে আছে অজান্তে মুখে হাসি ফুটে উঠলো ।
 
-আম্মু তো‌ এইমাত্র ডেকে গেলো আর সিয়াম এখানে শুয়ে আছে যদি এসে দেখে যে তার জামাই নিচে শুয়ে আছে না জানি কি ভাববে । (মনে মনে)
-এই উঠেন(সানজিদা)
-উমম একটু পর । (সিয়াম)
-না এখনই উঠুন যান গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন । (সানজিদা)
সিয়াম ফালদে উঠলো
 
-বাহ এখন কি মনে করে বিছানায় শুতে বলছো (সিয়াম)
-এমনি যান (সানজিদা)
-না তুমি এমনি কোনো কাজ করো না এর পিছনে নিশ্চয় কোনো কারণ আছে আমি বিছানায় যাবো না (সিয়াম)
-কি হলো‌ উঠেছিস (সানজিদার মা বাইরে থেকে)
-হ্যা মা আসছি ।(সানজিদা)
-ও তার মানে এই বেপার আমি তো‌ এখন বিছানায় যাবো না (সিয়াম)
-প্লিজ বিছানায় যান মা দেখলে খারাপ ভাববে (সানজিদা)
-ভাবুক তাও আমি বিছানায় যাবো না আমার বিছানায় এলার্জি আছে । (সিয়াম)
-রাতে বললেন নিচে শুলে এলার্জি এখন বলছেন বিছানায় শুলে‌ এলার্জি (সানজিদা)
-আসলে‌ আমার এলার্জিটা খুব দুষ্টু কখন কোথায় যায় ঠিক থাকে না (সিয়াম)
-প্লিজ বিছানায় যান (সানজিদা)
-বললাম তো‌ যাবো না শ্বাশুরি এসে দেখুক তার জামাইয়ের উপর কেমন অবিচার হয় । (সিয়াম)
-আপনি যাবেন কিনা (সানজিদা ঝাড়ি মেরে)
-আপনার ঝাড়ি তে কোনো কাজ হবে না‌ আমি এখানেই থাকবো (সিয়াম)
-প্লিজ যান
 
-ঠিক আছে এতো করে যখন বলছো যেতে পারি তবে একটা শর্ত আছে (সিয়াম)
-কি
 
-আমাকে একটা কিস করতে হবে (সিয়াম)
-কি কখনই না (সানজিদা)
-ঠিক‌ আছে তাহলে‌ আমিও যাচ্ছি না (সিয়াম)
-ঠিক আছে দিচ্ছি তারপরেই কিন্তু উঠে যাবেন (সানজিদা)
-সেটা আর বলতে (সিয়াম)
-উম্মা এবার যান (সানজিদা)
-আহ্ কি নরম ঠোট যদি আর একটা দাও (সিয়াম)
-যাবেন
 
-হুমম যাচ্ছি সব সময় শুধু ঝাড়ি মারে আমি ভয় পায়না বুঝি (সিয়াম)
বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো । আর সানজিদা তার মায়ের কাছে গেলো ।
-কিরে এতো দেড়ি হলো কেনো (মা)
-ওই তোমার জামাইয়ের জন্য (সানজিদা)
-কেনো রে জামাই আবার কি করলো (মা)
-কি করবে সকালে উঠতে চায় না তাকে উঠাতে গিয়ে দেড়ি হয়ে গেছে (সানজিদা)
-ওহ্ ।
তারপর সিয়াম ও সানজিদা আরো দুই দিন সেখানে থেকে ঢাকায় চলে আসলো‌।
-আচ্ছা সানজিদা একটা কথা জিজ্ঞাসা করি (সিয়াম)
-কি
 
-তুমি কি এখনও আমাকে ভালোবাসতে পারো নি । (সিয়াম)
সানজিদা কিছু না বলে দাড়িয়ে আছে । কি বলবে আসলে সেও‌তো সিয়ামকে ভালোবেসে ফেলেছে কিন্তু প্রকাশ করছে না ।
 
-কি হলো বলো (সিয়াম)
-হঠাৎ এই‌ প্রশ্ন (সানজিদা)
-এমনি বলবা তো (সিয়াম)
-হুমম
 
-তাহলে কি আমি তোমাকে একটা কিস করতে পারি (সিয়াম)
-না
 
-কেনো তুমি‌ আমাকে ভালোবাসো না (সিয়াম)
-হ্যা তবে এখনও পুরোপুরি না (সানজিদা)
-ঠিক আছে তবে আস্তে করে একটা কিস করি (সিয়াম)
-না
 
-শুধু একটা
 
কথাটা বলেই সিয়াম সানজিদার হাতটা চেপে ধরলো । আর সানজিদা জোর খাটাচ্ছে যাতে সিয়াম কিস করতে না পারে । হাতা হাতি করতে করতে এক পর্যায়ে সানজিদা হাত ছাড়াতে গিয়ে সিয়ামের গালে থাপ্পর পরে যায় অথচ সানজিদা এটা ইচ্ছা করে দেয়নি ।
 
সিয়াম শুধু গালে হাত দিয়ে সানজিদার দিকে তাকিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো ।
 
সিয়ামের এখন প্রচন্ড রাগ হচ্ছে ভাবছে সানজিদা এখনও তাকে ভালোবাসে না অথচ তার জন্যই এতো দিন ভালো হয়েছি শুধু একটা কিসই তো করতে চেয়েছি তাই বলে থাপ্পর মারবে না এটা মেনে নেওয়া যায় না । সিয়াম রেগে বন্ধুদের কাছে চলে গেলো ।
-কিরে সিয়াম কি হয়েছে তোর এমন দেখাচ্ছে কেনো । (আশিক)
-তো কেমন দেখাবে বল । (সিয়াম)
-কেনো কি হয়েছে (আশিক)
-আরে সানজিদার জন্য কি করিনি বল ওর জন্য সব কিছু বাদ দিয়েছি এমন কি তোদের সাথে আগের মতো‌ আড্ডাও দেইনা তারপরও ও আমাকে ভালোবাসে না । (সিয়াম)
-হঠাৎ করে তোর আবার কি হলো (আশিক)
-আরে শুধু মাত্র একটা কিস করতে চেয়েছিলাম তাই থাপ্পর মেরেছে । অনেক হয়েছে আর না অনেক সহ্য করেছি সহ্য করতে করতে সহ্যর সীমা অতিক্রম হয়েগেছে (সিয়াম)
-দেখ সিয়াম মাথা ঠান্ডা কর রাগ করিস না । আর এখন বাসায় গিয়ে ভাবির সাথে ভালো ভাবে কথা বল দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে । (আশিক)
-কিসের ঠিক হবে কিছুই ঠিক হবে না । জানিস বিয়ের পর একটা রাতও বিছানায় শুতে পারিনি এমনি ওদের বাড়ি গিয়ে আমাকে নিচেও শুতে হয়েছে । (সিয়াম)
-দেখ যা হবার হয়েছে এখন মাথা ঠান্ডা করে বাসায় যা । (আশিক)
-আমার এখন বাসায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই তোদের কাছে টাকা থাকলে দে আমার কাছে এখন নেই‌। (সিয়াম)
-কেনো কোথায় যাবি (আশিক)
-যেখানেই যায় দে । (সিয়াম)
আশিক নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে সিয়ামকে দিলো আর সিয়াম টাকাটা নিয়ে কোথায় গেলো‌ ওই ভালো জানে ।
..
চলবে.....

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১১


সানজিদা রাগী ভাব নিয়ে সিয়ামের পাশে এসে বসলো । 
-সুমাইয়াকে কি বলছেন(সানজিদা)
-কোন সুমাইয়া (সিয়াম)
-এখন নাটক করা হচ্ছে তাই না কি বলছেন ওকে (সানজিদা )
-ক ক কই আমি তো কিছু বলিনি (সিয়াম)
-কিছু বলেন নি তাইনা আমি কিন্তু সব শুনেছি (সানজিদা)
-শুনেইছো যখন তাহলে আবার জিজ্ঞাসা করছো কেনো (সিয়াম)
-আপনি কি বলেছেন আমি ডাইনাসর তাইনা (সানজিদা)
-ভুল কি বলছি (সিয়াম)
-কি এখন আবার বলছেন ভুল কি বলছি এর জন্য আপনাকে শাস্তি পেতে হবে আর শাস্তিটা হলো আজকে রাতে আপনার খাওয়া বন্ধ (সানজিদা)
-এ্যা
-এ্যা নয় হ্যা আর এখন এখানে চুপচাপ বসে থাকুন বেশি কথা বললে.....(সানজিদা)
-হুমম বুঝছি আর বলতে হবে না । (সিয়াম)
সন্ধ্যার পর আবার সুমাইয়া এসে হাজির ।
 
-কি দুলাভাই কি করেন (সুমাইয়া)
সিয়াম কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে আছে
 
-কি হলো কথা বলবেন না । (সুমাইয়া)
-তখন তোমার সাথে কথা বলে রাতের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে এখন আর কথা বলতে চাইনা কে জানে ঘর থেকেই না বের করে দেয় (সিয়াম)
-হি হি এতো ভয় পান সানজিদাকে (সুমাইয়া)
সিয়াম আর কিছুই বললো না কিছুক্ষন বাদে সানজিদা হাজির
 
-কিরে সানজিদা দুলাভাইকে কি করেছিস যে এতো ভয় পায় তোকে আমাকেও বলনা যাতে বিয়ের পরে আমার স্বামী কেউ দুলাভাইয়ের মতো করে রাখতে পারি । (সুমাইয়া)
-কেনো ও কি তোকে এখন কিছু বলেছে (সানজিদা)
-আরে ভয়ে তো কথাই বলছে না দেখছিস না কিভাবে চুপ করে বসে আছে । (সুমাইয়া)
-হুমম আচ্ছা তুই‌ এখন যা (সানজিদা)
-কেনো রে দুলাভাইয়ের ক্লাস নিবি আমিও থাকি দেখি কিভাবে নিস (সুমাইয়া)
-তুই যাবি
 
-হুমম যাচ্ছি দুলাভাই ভালো থাকবেন (সুমাইয়া)
-হুমম আমার আর ভালো থাকা আল্লাহই জানে এখন কপালে কি আছে (সিয়াম মনে মনে)
সুমাইয়া চলে গেলো
 
রাতে সানজিদার মা বাবা খেতে বসেছে আর সানজিদা তাদের দুজনকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে ।
 
-কিরে জামাই কোথায় ডাক দে (বাবা)
-হুমম তোমরা খেয়ে নাও তারপর ডাক দিচ্ছি । (সানজিদা)
-এটা কি করে হয় জামাইকে ডাক দে এক সাথেই খাই (বাবা)
-তোমার জামাই কি যেনো করছে ঘরে তোমরা খাও আমি তার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছি (সানজিদা)
-ঠিক আছে।
 
সানজিদা একটা প্লেটে করে ভাত এবং তরকারি নিয়ে গেলো ।
 
-এই যে মিষ্টার কি করেন (সানজিদা)
সিয়াম দেখলো যে সানজিদার হাতে ভাতের প্লেট তার মানে এটা আমার জন্যই এনেছে ।
 
-তুমি কষ্ট করে ভাত আনতে গেলে কেনো আমাকে বলতে আমি নিজে গিয়ে নিয়ে‌ আসতাম । (সিয়াম)
-এ আইছে উনার জন্য ভাত আনতে যাবো আপনার শাস্তির কথা মনে নেই আর এটা আমি নিজের জন্য আনছি চুপ করে ওখানে বসে থাকুন (সানজিদা)
-এ্যা
 
-অবাক হবার দরকার নেই‌ এটাই আপনার শাস্তি আমাকে ডাইনাসর বলার জন্য । (সানজিদা)
সানজিদা সিয়ামের সামনে বসে খাচ্ছে‌ আর সিয়াম হা করে থাকিয়ে আছে অসহায়ের মতো
 
-ওমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেনো মশা ডুকে যাবে । (সানজিদা)
সিয়াম নিজের মুখটা বন্ধ করে নিলো
-এদিকে নজর দিবেননা বলা যায় না যদি পেট খারাপ হয়ে যায় । (সানজিদা)
সিয়াম অন্যদিক ঘুরে বসলো আর সানজিদা মুচকি মুচকি হাসছে । তারপর সানজিদা খাবার খেয়ে প্লেট গুলা পরিষ্কার করতে চলে গেলো ।
 
এদিকে সিয়ামের পেটের মধ্য ইঁদুর দৌড়াচ্ছে ক্ষুদা লাগছে কিন্তু কি করবে খেতে পারছে না কেনো যে তখন ডাইনাসর বলতে গেলো । কিছুক্ষন বাদে সানজিদা রুমে আসলো ।‌
-উঠুন বিছানা পরিষ্কার করবো । (সানজিদা)
সিয়াম উঠে গেলো ।
 
-আজকে তো তুমি আর আমি এক সাথে থাকবো কারণ এখানে কোনো সোফা নেই আহ্ মনে হয় কি সব সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে যায় । (সিয়াম)
-জেগে জেগে‌ স্বপ্ন দেখা বাদ দিন আমি একা থাকবো (সানজিদা)
-তুমি একা থাকবে মানে তাহলে আমি কোথায় থাকবো (সিয়াম)
-কেনো নিচে (সানজিদা)
-কি আমি নিচে থাকবো পারবো না (সিয়াম)
-না পারলে দাড়িয়ে থাকুন (সানজিদা)
-নিচে আমার এলার্জি আছে আমি পারবো না তাছাড়া তোমার সাথে থাকলে সমস্যা কি । (সিয়াম)
-সমস্যা আছে নিচে থাকলে থাকুন নাহলে দাড়িয়ে থাকেন আমি শুয়ে পড়লাম । (সানজিদা বলেই অন্য পাশ হয়ে শুয়ে পড়লো)
সিয়ামেরও কিছু করার নেই নিচে বিছানা পেতে শুয়ে পড়লো কিন্তু ক্ষুদার জন্য তেমন একটা ঘুম আসছে না এপাশ অপাশ করতে করতে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে জানে না ।
সকালে সানজিদার মা এসেছে ডাকতে ।
-কিরে সানজিদা ওঠ সকাল হয়েছে তো । (মা)
-হুমম আসছি (সানজিদা)
সানজিদা উঠে দেখে যে সিয়াম নিচে শুয়ে আছে অজান্তে মুখে হাসি ফুটে উঠলো ।
 
-আম্মু তো‌ এইমাত্র ডেকে গেলো আর সিয়াম এখানে শুয়ে আছে যদি এসে দেখে যে তার জামাই নিচে শুয়ে আছে না জানি কি ভাববে । (মনে মনে)
-এই উঠেন(সানজিদা)
-উমম একটু পর । (সিয়াম)
-না এখনই উঠুন যান গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন । (সানজিদা)
সিয়াম ফালদে উঠলো
 
-বাহ এখন কি মনে করে বিছানায় শুতে বলছো (সিয়াম)
-এমনি যান (সানজিদা)
-না তুমি এমনি কোনো কাজ করো না এর পিছনে নিশ্চয় কোনো কারণ আছে আমি বিছানায় যাবো না (সিয়াম)
-কি হলো‌ উঠেছিস (সানজিদার মা বাইরে থেকে)
-হ্যা মা আসছি ।(সানজিদা)
-ও তার মানে এই বেপার আমি তো‌ এখন বিছানায় যাবো না (সিয়াম)
-প্লিজ বিছানায় যান মা দেখলে খারাপ ভাববে (সানজিদা)
-ভাবুক তাও আমি বিছানায় যাবো না আমার বিছানায় এলার্জি আছে । (সিয়াম)
-রাতে বললেন নিচে শুলে এলার্জি এখন বলছেন বিছানায় শুলে‌ এলার্জি (সানজিদা)
-আসলে‌ আমার এলার্জিটা খুব দুষ্টু কখন কোথায় যায় ঠিক থাকে না (সিয়াম)
-প্লিজ বিছানায় যান (সানজিদা)
-বললাম তো‌ যাবো না শ্বাশুরি এসে দেখুক তার জামাইয়ের উপর কেমন অবিচার হয় । (সিয়াম)
-আপনি যাবেন কিনা (সানজিদা ঝাড়ি মেরে)
-আপনার ঝাড়ি তে কোনো কাজ হবে না‌ আমি এখানেই থাকবো (সিয়াম)
-প্লিজ যান
 
-ঠিক আছে এতো করে যখন বলছো যেতে পারি তবে একটা শর্ত আছে (সিয়াম)
-কি
 
-আমাকে একটা কিস করতে হবে (সিয়াম)
-কি কখনই না (সানজিদা)
-ঠিক‌ আছে তাহলে‌ আমিও যাচ্ছি না (সিয়াম)
-ঠিক আছে দিচ্ছি তারপরেই কিন্তু উঠে যাবেন (সানজিদা)
-সেটা আর বলতে (সিয়াম)
-উম্মা এবার যান (সানজিদা)
-আহ্ কি নরম ঠোট যদি আর একটা দাও (সিয়াম)
-যাবেন
 
-হুমম যাচ্ছি সব সময় শুধু ঝাড়ি মারে আমি ভয় পায়না বুঝি (সিয়াম)
বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো । আর সানজিদা তার মায়ের কাছে গেলো ।
-কিরে এতো দেড়ি হলো কেনো (মা)
-ওই তোমার জামাইয়ের জন্য (সানজিদা)
-কেনো রে জামাই আবার কি করলো (মা)
-কি করবে সকালে উঠতে চায় না তাকে উঠাতে গিয়ে দেড়ি হয়ে গেছে (সানজিদা)
-ওহ্ ।
তারপর সিয়াম ও সানজিদা আরো দুই দিন সেখানে থেকে ঢাকায় চলে আসলো‌।
-আচ্ছা সানজিদা একটা কথা জিজ্ঞাসা করি (সিয়াম)
-কি
 
-তুমি কি এখনও আমাকে ভালোবাসতে পারো নি । (সিয়াম)
সানজিদা কিছু না বলে দাড়িয়ে আছে । কি বলবে আসলে সেও‌তো সিয়ামকে ভালোবেসে ফেলেছে কিন্তু প্রকাশ করছে না ।
 
-কি হলো বলো (সিয়াম)
-হঠাৎ এই‌ প্রশ্ন (সানজিদা)
-এমনি বলবা তো (সিয়াম)
-হুমম
 
-তাহলে কি আমি তোমাকে একটা কিস করতে পারি (সিয়াম)
-না
 
-কেনো তুমি‌ আমাকে ভালোবাসো না (সিয়াম)
-হ্যা তবে এখনও পুরোপুরি না (সানজিদা)
-ঠিক আছে তবে আস্তে করে একটা কিস করি (সিয়াম)
-না
 
-শুধু একটা
 
কথাটা বলেই সিয়াম সানজিদার হাতটা চেপে ধরলো । আর সানজিদা জোর খাটাচ্ছে যাতে সিয়াম কিস করতে না পারে । হাতা হাতি করতে করতে এক পর্যায়ে সানজিদা হাত ছাড়াতে গিয়ে সিয়ামের গালে থাপ্পর পরে যায় অথচ সানজিদা এটা ইচ্ছা করে দেয়নি ।
 
সিয়াম শুধু গালে হাত দিয়ে সানজিদার দিকে তাকিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো ।
 
সিয়ামের এখন প্রচন্ড রাগ হচ্ছে ভাবছে সানজিদা এখনও তাকে ভালোবাসে না অথচ তার জন্যই এতো দিন ভালো হয়েছি শুধু একটা কিসই তো করতে চেয়েছি তাই বলে থাপ্পর মারবে না এটা মেনে নেওয়া যায় না । সিয়াম রেগে বন্ধুদের কাছে চলে গেলো ।
-কিরে সিয়াম কি হয়েছে তোর এমন দেখাচ্ছে কেনো । (আশিক)
-তো কেমন দেখাবে বল । (সিয়াম)
-কেনো কি হয়েছে (আশিক)
-আরে সানজিদার জন্য কি করিনি বল ওর জন্য সব কিছু বাদ দিয়েছি এমন কি তোদের সাথে আগের মতো‌ আড্ডাও দেইনা তারপরও ও আমাকে ভালোবাসে না । (সিয়াম)
-হঠাৎ করে তোর আবার কি হলো (আশিক)
-আরে শুধু মাত্র একটা কিস করতে চেয়েছিলাম তাই থাপ্পর মেরেছে । অনেক হয়েছে আর না অনেক সহ্য করেছি সহ্য করতে করতে সহ্যর সীমা অতিক্রম হয়েগেছে (সিয়াম)
-দেখ সিয়াম মাথা ঠান্ডা কর রাগ করিস না । আর এখন বাসায় গিয়ে ভাবির সাথে ভালো ভাবে কথা বল দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে । (আশিক)
-কিসের ঠিক হবে কিছুই ঠিক হবে না । জানিস বিয়ের পর একটা রাতও বিছানায় শুতে পারিনি এমনি ওদের বাড়ি গিয়ে আমাকে নিচেও শুতে হয়েছে । (সিয়াম)
-দেখ যা হবার হয়েছে এখন মাথা ঠান্ডা করে বাসায় যা । (আশিক)
-আমার এখন বাসায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই তোদের কাছে টাকা থাকলে দে আমার কাছে এখন নেই‌। (সিয়াম)
-কেনো কোথায় যাবি (আশিক)
-যেখানেই যায় দে । (সিয়াম)
আশিক নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে সিয়ামকে দিলো আর সিয়াম টাকাটা নিয়ে কোথায় গেলো‌ ওই ভালো জানে ।
..
চলবে.....

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১০

গল্পঃ জোর করে বিয়ে !! ভালবাসার গল্প !! পর্ব-১০ 

সিয়াম সকালে এখন ঘুমিয়ে আছে ।

-আচ্ছা সানজিদা একটা কথা বলি । (সিয়াম)
-হুমম 
-রাগ করবা নাতো (সিয়াম)
-রাগ করার কথা হলে তো রাগ করবোই (সানজিদা)
-তাহলে থাক বলবো না (সিয়াম অভিমানী কন্ঠে)
-ইলে বাবা লে আমাল বাবু দেখি লাগ করছে (সানজিদা)
-ওই তুমি বাচ্চা নাকি যে তোতলিয়ে কথা বলছো (সিয়াম)
-হি হি বলো কি বলবা(সানজিদা)
-না বলবো না বললে তুমি রাগ করবে । (সিয়াম)
-বললাম তো করবো না এখন বলো (সানজিদা)
-সত্যি । (সিয়াম)
-তিন সত্যি এখন বলো (সানজিদা)
-চারপাশে কতো অন্ধকার তাই না আর আকাশের চাঁদটা কি সুন্দর তার আলো দিয়ে সেই অন্ধকারটাকে মুছে দিচ্ছে । (সিয়াম)
-ধুর কি যেনো বলতে চাচ্ছিলে সেটা বলো । (সানজিদা)
-আহ্ বলছিই তো । আচ্ছা এই চাঁদনি আকাশের নিচে তুমি আর আমি একা আশে পাশে কেউ নেই তোমার কিছু করতে ইচ্ছা করছে না । (সিয়াম)
-না 
-তবে আমার করছে চলোনা দুজনে চন্দ্রান্সান করি । (সিয়াম বলছে আর সামনের দিকে এগোছে )
-দেখো কাছে আসবে না কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে । (সানজিদা লজ্জা মাখা মুখে)
সিয়াম সানজিদার হাতটা ধরে কাছে টেনে নিয়ে মুখটা সানজিদার কাছে নিয়ে আসছে ।
-আ ভুত ভুত ভুত (সিয়াম চিৎকার করে )
-ওই ভুত পাইলেন কই । (সানজিদা রাগী কন্ঠে )
-আমার গায়ে পানি আসলো কোথা থেকে আমি তো ছাদে ছিলাম আর তুমি...(সিয়াম আর কিছু বললো না বুঝতে পারছে যে এটা স্বপ্ন ছিলো ধুর শালা স্বপ্নের মাঝেও একটু রোমান্স করতে দিলো না )
-আমি কি হ্যা আর কোল বালিসটা নিয়ে কি করছিলেন ছি (সানজিদা)
-এতে ছি বলার কি আছে তোমাকে তো আর ধরতে দিচ্ছো না (অস্পষ্ট ভাবে)
-কি বললেন (সানজিদা রাগী কন্ঠে)
-কিছু না পানি মারলে কেনো (সিয়াম)
-সেই কখন থেকে ডাকছি উঠার নামে তো খোজই নেই (সানজিদা)
-কেনো 
-আপনার মা নিচে ডাকছেন খেতে আসুন (সানজিদা)
-হুমম আসছি । (সিয়াম)
তারপর সিয়াম বাথরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো ।
অপরদিকে সিয়ামের মা রান্না ঘরে কাজ করছিলেন এমন সময় সানজিদা উপস্থিত ।
-আরে তুমি রান্না ঘরে কেনো আর সিয়ামকে ডাক দিয়েছো । (সিয়ামের মা)
-হুমম আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো । (সানজিদা)
-কি 
-আচ্ছা আপনারা দুজনেই এতো ভালো তাহলে আপনার ছেলে এমন কেনো । (সানজিদা)
-সত্যি কথা বলতে ওর এমন হবার পিছনে একমাত্র আমরাই দায়ী (মা)
-মানে 
-একমাত্র ছেলে তাই কোনো দিন কিছু বলতে পারিনি সেই জন্য এমনটা হয়েছে তবে তুমি চাইলে ওকে ঠিক করতে পারো জানি আমার ছেলেকে তুমি এখনও মেনে নিতে পারছো না হয়তো তবে সত্যি কথা বলতে ও যেমনই হোক না কেনো মনটা অনেক ভালো । (মা)
সানজিদা কোনো কিছু না বলে চলে এলো । 
-আম্মু কই খেতে দাও (সিয়াম)
-আজকে থেকে আপনি নিজ হাতে নিয়ে খাবেন কেউ আপনাকে দিবে না বুঝছেন । (সানজিদা)
-মানে 
-মানে খুব সোজা হাত দিয়ে তুলে নিয়ে খান । (সানজিদা ঝাড়ি মেরে)
-আমি পারবো না আম্মু দাও (সিয়াম)
-আম্মা আপনি দিবেন না ঠিক আছে যদি ভালো না লাগে আপনাকে খেতে হবে না । (সানজিদা)
সিয়াম আর কি বলবে অসহায়ের মতো সব কিছু নিজ হাতে নিয়ে খেয়ে রুমে চলে গেলো ।
-সানজিদা তাহলে থাক আমরা এখন যাই ভালো ভাবে থাকিস (সানিজদার বাবা)
-যাবেন কেনো থাকুন এখানে ((সিয়ামের বাবা)
-না অনেক দিন হলো গ্রাম থেকে এসেছি আর সানজিদা জামাইকে নিয়ে আসিস কিছুদিন পর (সানজিদার বাবা)
-হুমম আব্বু যাবো (সানজিদা কাদো কাদো কন্ঠে)
সানজিদার বাবা মা দুজনেই চলে গেলেন । রাতে সিয়াম ঠিক করলো আগে গিয়ে বিছানার উপর শুয়ে থাকবে আর ঘুমানোর ভাব করবে তারপর দেখবো সানজিদা বিছানা ছারা কোথায় ঘুমায় । যেই ভাবা সেই কাজ আগে গিয়ে বিছানার উপর শুয়ে ঘুমানোর ভাব করছে ।
-এই উঠুন (সানজিদা)
-ঘুমানোর ভাব করছে যেনো কিছুই শুনতে পারছে না 
-কি হলো উঠুন আমি ঘুমাবো (সানজিদা)
এবারও সিয়াম উঠছে না দেখে সানজিদা মনে মনে একটা উপায় খুজতে লাগলো । 
-উঠবেন নাকি পানি মারবো । (সানজিদা)
এখনও কোনো সারা নেই 
-ঠিক আছে আপনি শুয়ে থাকুন আমি আসছি (সানজিদা বলেই বাথরুমে গেলো পানি আনতে)
সিয়াম তো এখনও শুয়ে আছে যেই দেখলো যে সানজিদা বাথরুমে গেছে ওমনি উঠে তাড়াতাড়ি করে সোফায় শুয়ে পড়লো । 
-কি বেপার এখন সোফায় গেলেন কেনো । (সানজিদা)
-ওইখানে শুয়ে আমার রাত করে গোসল করার কোনো ইচ্ছাই নেই । (সিয়াম)
-হি হি সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল কিভাবে বাকা করতে হয় আমার জানা আছে । (সানজিদা)
কথাটা বলেই বিছানায় শুয়ে পড়লো ।
দেখতে দেখতে ১ মাস হয়ে গেছে ওদের বিয়ের তবে সিয়ামের এখনও পর্যন্ত সানজিদার সাথে এক বিছানায় শুয়ার সৌভাগ্য হয়নি । 
এই কয়দিনে সানজিদাও সিয়ামের প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে তবে সেটা সিয়ামকে বুঝতে দেওয়া যাবেনা কারণ এখনও ও সম্পূর্ণ ভালো হয়নি । কিছু বদ অভ্যস গুলো ঠিক করতে হবে ।
ছাদে বসে সিয়াম ও তার বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে । 
-কিরে মামা এখন তো ঠিক মতো দেখাই করতে চাস না । (রাফি)
-কি ভাবে করবে সারাদিন তো ভাবি নিজের আচলে বেধে রাখে । (সোহাগ বলেই হেঁসে উঠলো)
-আর বলিস না বিয়ের আগে ছিলাম সিংহ আর বিয়ের পরে এখন হয়ছি ভেজা বিড়াল ।(সিয়াম)
-কেনো 
-সব সময় শাসন করে এটা করলাম কেনো ওটা করলাম কেনো (সিয়াম)
-এটা তোর দোষ তুই তো ওকে বিয়ে করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলি । (সোহাগ)
-হুমম তবে অন্য দিক দিয়ে ভালো হয়েছে মা বাবার কথা সব সময় শোনে তাদের কাজে সাহায্য করে শুধু আমার বেলায় জিরো । এখন তো মা বাবা ওর ভক্ত হয়ে গেছে ও যা বলবে সেটাই জানিস এখন আমার হাতে একটা টাকাও দেইনা চাইলেই বলে বউমার কাছ থেকে নে । এ কেমন বিচার (সিয়াম)
-কেনো রে বাসর রাতে বিড়াল মারছিলি না যদি মারতি তাহলে আজকে হয়তো আর এমনটা হতো না (আশিক)
-আর বিড়াল মারতে গেছিলাম উল্টা বিড়াল নিজেই আমারে খামছি দিছে । (সিয়াম)
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠলো। এমন সময় পিছন থেকে সানজিদা এসে হাজির ।
-এতো হাসি কিসের (সানজিদা)
-ও কিছু না ভাবি এমনি গল্প করছিলাম ওই চল সবাই ভাবি আসছে এখন আর থাকা যাবে না । (আশিক)
সবাই চলে গেলো । 
-আপনাকে না বলছিলাম আড্ডা দিবেন না তারপরও কি মনে করে হু যান গিয়ে জামা কাপর গুছিয়ে নিন । (সানজিদা)
-কেনো 
-আমার গ্রামের বাড়ি যাবো যান নিজের জামা কাপর কি কি নিবেন নিয়ে নিন । (সানজিদা)
-বলছিলাম তুমি গিয়ে গুছিয়ে দাও তাহলেই তো হয় । (সিয়াম)
-পারবো না পারলে নিজে গুছিয়ে নিন । (সানজিদা)
সিয়াম নিজের রুমে গিয়ে জামা কাপর গুয়ে রেখে দিলো । পরের দিন দুজনেই সানজিদাদের বাসায় এসে হাজির । 
-আম্মু কেমন আছো । (সানজিদা)
-সানজিদা তুই হঠাৎ করে ফোন করতে পারতি তাহলে আগে থেকে সব কিছু করে রাখতাম । (মা)
-সারপ্রাইজ দিলাম (সানজিদা)
তারপর দুজনেই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে নিলো । বিকালের দিকে সানজিদার বান্ধবী সুমাইয়া এসে হাজির ।
-আসসালামু ওয়ালাইকুম দুলাভাই (সুমাইয়া)
-ওয়ালাইকুম আসসালাম আপনাকে চিনলাম না । (সিয়াম)
-আমি সানজিদার বান্ধবী । (সুমাইয়া)
-ওহ তার মানে আমার শালি (সিয়াম)
-শালি হলাম কি করে আমি কি সানজিদার বোন নাকি (সুমাইয়া)
-বোন আর বান্ধবী একই তো । (সিয়াম)
-তা দুলাভাই সানজিদা কেমন আদর করে আপনাকে । (সুমাইয়া)
-আর আদর সেটা তো আমার কপালে নেই (সিয়াম)
-কেনো
- তোমার বান্ধবী তো একটা ডাইনাসর সব সময় আতংকের উপরে রাখে । (সিয়াম)
-কেনো ওকে দেখে ভয় পান বুঝি । (সুমাইয়া)
-আমি কেনো তোমার বান্ধবীকে ভয় পাবো উল্টা ওই আমাকে ভয় পায় । (সিয়াম)
-হুমম সেটা তো বুঝতেই পারছি । (সুমাইয়া)
দরজার পাশে যে সানজিদা দাড়িয়ে ছিলো এটা সিয়াম খেয়াল করেনে । সানজিদা তো সিয়ামের দিকে একভাবে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে ।
-আচ্ছা দুলাভাই আসি বেঁচে থাকলে খোজ দিয়েন । (সুমাইয়া বলেই হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলো)
সিয়াম ভাবছে এই যা এখনও কি কিছু বলবে নাকি যদি বলে তাহলে আমার মানসম্মান শেষ শশুর বাড়ি বলে কথা ।
...
চলবে....

Please Like Comment & Share. Fast Flow Page Like. Advance Thanks.

...............Next Part Coming Soon...................
10/জোর%20করে%20বিয়ে/small-col-right
10/জোর%20করে%20বিয়ে/small-col-right